আহমেদের কানেক্ট সাইটে ফিরে যান

আমার সম্পর্কে জানুন

ব্যক্তিগত লেখা

Masum Ahmed
মাসুম আহমেদ

আমি মাসুম আহমেদ। একজন সাধারণ মানুষ। ভালবাসি হাঁটতে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরে বেড়াতে, ছবি তুলতে, এমনকি রান্না করতে। তাছাড়া ভালবাসি জানতে, ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করতে এবং বিভিন্ন ইতিহাস থেকে নানান কিছু শিখতে। টুকটাক কবিতা, ছোট গল্প লিখতে পছন্দ করি। আমার পছন্দের পানীয় হচ্ছে কফি ও চা। আমি বার-বার চা – কফি খেতে বিরক্ত হই না। কারণ, চা-কফি আমার প্রচুর পছন্দের।

আমার একাডেমিক শিক্ষা নিয়ে তেমন বড় পরিসরে বলবার কিছু নেই। ছোট থেকেই একাডেমিক পড়াশোনার বিরুদ্ধে আমি। গতানুগতিক পড়াশোনার কথা চিন্তা করলে আমার পড়াশোনার তালিকা নিন্মস্তরের দিকে পাওয়া যাবে। তাই এটি নিয়ে বলবার মতো বা প্রকাশ করবার মতো বিশেষ স্তরটি উল্ল্যেখ করতে পারছি না।

আমার বাবা একজন আইনজীবি, আর মা এখজন হোমিও চিকিৎসক। তাঁদের সাথে আমার ছোটবেলা কেটেছে, আমার দাদারবাড়ী; এর পর আমার বাবা আলাদা বাড়ী বানানোর পর আমরা হয়ে যাই একটি ছোট্ট পরিবার। আমার ছোট ভাই, বাবা – মা ও আমি। আমার পরিবারের সমস্ত কর্তৃত্ব বহন করেন আমার বাবা। এবং আমাদের পরিবারের সমস্ত ক্ষমতা তাঁর হাতেই কুক্ষিগত থাকে।

আমার জীবনের শুরুটা হয় পড়াশোনার জন্য প্রবল চাপ ও চাচা – ঝেঠাদের অতিমাত্রায় শাসন ও ব্যক্তিগত অধিকার ও আত্মিক মননে আঘাতের মধ্য দিয়ে। তখন আমার মুক্ত চিন্তা – বেড়ে উঠা ; তাঁদের শাসন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভুল প্যারেন্টিং এর কারণে বাধাগ্রস্ত হয়। এটা নিয়ে এখনো আমাকে বিভিন্ন পর্যায়ে সাফার করতে হয়। অথচ, প্রতিটা বিষয় এখনকার সময়ে এসে চিন্তা করলে বলা যায় চাইল্ড এবিউস। তবে কিছুই করার নেই প্রত্যকের জীবনেই আমরা যারা নাইন্টিস এ জন্মেছি, এই ব্যপারগুলোর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। যেটা ভয়ঙ্কর রকম অন্যায়।

আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের অধ্যায় শুরু হয় আমি যখন পঞ্চম শ্রেণীতে উঠি, আমাকে একটা কোচিং সেন্টারে আবাসিকে ভর্তি করে দেয়া হয় যেন বৃত্তি পাই। এই শুরু হল আমার অমানুষিক কষ্টের দিন। বড়দের বুলিং, পরিবার থেকে একা থাকার কষ্ট, খাবারের কষ্ট, থাকার কষ্ট সব মিলিয়ে আমি যান্ত্রিক মানবে রূপান্তরিত হই। কারণ, আমার ইমোশনস শেয়ার করার মতো একটা মানুষ খুঁজে পাই নাই। ওখানে ভর্তির কিছুদিন পরে আমার এক মামা আরেকটি কোচিং এর আবাসিক হোস্টেল থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু আমার কি সে কপাল আছে!? খারাপ লাগে অথচ বলতে পারি না। এই অত্যাচার দিয়ে আমার কিশোর জীবনের শুরু।

এর পর ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য আমাকে ময়মনসিংহের একটা ক্যাডেট কোচিং এ ভর্তি করে ওখানের হোস্টেলে রেখে আসা হয়। এখন তো আরও কষ্ট, সকাল আটটায় উঠা লাগে, খেয়ে নয়টায় ক্লাস, এর পর দুপুর থেকে বিকেল গড়িয়ে যায় ক্লাস চলতেই থাকে। আবার সন্ধ্যা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ক্লাস চলে। এখানেও আমি নানাবিধ প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে যাই। অনেক হ্যারেসমেন্ট, বুলিং এর স্বীকার হই। কারণ, আমি নিজে প্রটেষ্ট করার মতো অতটা বুদ্ধিমান মানুষ তখনো ছিলাম না।

একটু ভাল লাগা শুরু হয় যখন আমি ‘আকা’ কে প্রথম দেখি। আমি প্রথম দেখাই প্রেমে পড়ে যাই। আমার জীবনে ওয়ান সাইডেড লাভ শুধু এইটাই ছিল। ওহ ওহ ওহ !!!! সে কি সুন্দরী, মায়াবতী, লীলাময়ী, অপূর্ব, অপ্সরী; আমার জীবনে পছন্দ হওয়া প্রথম নারী। অথচ, দুইজনই ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি। কষ্টের বিষয় হল তাকে কখনো বলতেই পারি নাই যে তাকে ভালবাসি। আর সেই বয়সে আমার এই গাটস আসলেই ছিল না। থাকবার কথাও না। তাঁর সাথে থাকাকালীন সেই সমস্ত স্মৃতিগুলো আমার বহু বছর মনে গেঁথে ছিল। সে সেন্টার ফ্রেশ পছন্দ করতো, আইসক্রিম পছন্দ করতো, সাঁজতে পছন্দ করতো ইভেন তাঁর সবকিছুর খবর আমি রাখতাম। ধরে নেয়া যায় সে আমার অনেক বড় লেভেলের একটা ক্রাশ ছিল।

তারপর ভর্তি হলাম মুকুল নিকেতনে, মুকুলের ছাত্রাবাস আরও গিঞ্জি। এক ফ্লোরে পঞ্চাশ জনের উপ্রে থাকতাম মনে হয়। সেই সপ্তম থেকে নবম শ্রেণি আমার বহু স্মৃতি আছে ওখানে। এর মধ্যে কিছু বন্ধুও জোটেছিলো তবে কেও অত কাছের ছিল না। মুকুলের খাবার ছিল অত্যন্ত নিন্মমানের। তবু আমাকে থাকতে হয়েছিল বাধ্য হয়ে। পরিবারের চাপে। এগুলো খুব কষ্টের।

এর মধ্যে একটা উল্ল্যখযোগ্য ঘটনা হল একবার ‘ ব্যাংক থেকে কিভাবে টাকা তুলতে হয় তা শিখতে ‘ স্রেফ সপ্তম শ্রেণিতে বাবার চেকে সই জাল করে একটা বেসরকারি ব্যাংকে গিয়েছিলাম। ধরা খেয়েছি এটা তো আসলেই অত্যন্ত বেমানান। এগুলো সব প্যারেন্টসদের সাথে কমিউনিকেশন গ্যাপের জন্য হয়েছে। কারণ, প্রতিটা বিষয়ে জানার প্রবল কৌতূহল আমাকে সবসময় কুড়ে কুড়ে খেয়েছে। বাবা কথা বলা বন্ধ করে দিলেন। ভালই হলো ছুটিতে আসলে আর ডেকে ঘুম থেকে তুলে না।

মুকুল শেষে এলাকায় ভর্তি হলাম বাসার সাথেই স্কুল। এই স্কুলে এসে আবার প্রেমে পড়ি। হাতে গোনা কয়েকটা প্রেমও করে ফেলি। এর পর মারামারি , বন্ধুদের সাথে ঘুরাঘুরি চলতে থাকে। তখন এই কয়েকটা দিন নিজেকে খুব বেশী মুক্ত মনে হতো। এর পর এস, এস, সি শেষ করলাম।

কলেজে নিয়ে আমাকে আবার বন্দী করা হল উত্তরায়, মাইলস্টোন কলেজে। আবার শুরু হল আমার গৃহবন্দি। দুইবছর পড়েছি ওখানে। এখানেও একটা মেয়ের প্রেমে পড়েছিলাম। আর এই মেয়ের জন্য তখন লোকাল পোলাপানের সাথে আমার একটা ঝামেলায় আমার বন্ধুরা পুরা হোস্টেল জড়িয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় আমার একাডেমিক রেজাল্ট দুর্বল দেখিয়ে আমাকে কলেজ থেকে এক বছরের জন্য সময় নিতে বলা হয়েছিলো।

এমতাবস্থায় পরিবারের সিদ্ধান্তে আমি আমার কলেজ ছেড়ে আবার ময়ময়নসিংহে একটা পলিটেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি করে দিয়েছিলো। ডিপার্টমেন্ট ছিল কম্পিউটার। কিন্তু দেখতে পেলাম বাবা মায়ের অনীহা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছিলো। তৃতীয় সেমিস্টারে এসে একটা কম্পিউটার নিতে পারি নাই নিজের জন্য। এটা কোন বিষয় না যদিও কিন্তু তখন আফসোস হতো; এ আফসোস প্রচণ্ড রকমের আফসোস। এর মধ্যে আমি আবারো প্রেমে পড়ি। জান প্রাণ দিয়ে প্রেম। এর পর প্রায় বছর পাঁচেক আমি উধাও ছিলাম।

আর ততদিনে তথাকথিত পড়াশোনার পাট চুকিয়ে আমি প্রথমে বিপ্লবী তাঁর পর স্বাধীন হয়ে যাই। এর পর থেকে শুরু হয় আমার নিজের জীবন। নিজের রুলস। এই মুহুর্তে হালকা পাতলা ওয়েব সাইট ডেভেলপমেন্টের সার্ভিস দিয়ে আমার দিন যাচ্ছে। তবে আমি এখন সম্পূর্ন একাকী। নিজের জীবন সুন্দরভাবে উপভোগ করছি। একটা সর্বশেষ প্রেমিকা ঝুটেছে আমার কপালে, সে অত্যন্ত ভাল মানুষ। আল্লাহ তাঁকে ও আমাকে ভাল রাখুন। কেও এটি পড়ে থাকলে অবশ্যই আমাকে আপনাদের দোয়াই রাখবেন।

আমি নিজেকে ভালবাসি; সবসময় আমাকে যে ভালবাসে তাকে নিজের চেয়েও বেশী ভালবাসি। আমার বয়স ত্রিশের আশেপাশে। তবে মনটা এখনো পড়ে থাকে সেই আঠেরো তে।

আমার পরবর্তী কিছু চিন্তাধারা উল্লেখ করলামঃ আমি সবসময় চেষ্টা করি একটা সুন্দর জীবন হোক তবে তা ক্ষমতা, সন্মান বা সম্পদের অর্থে না। জীবন ততক্ষণ সুন্দর যতক্ষণ আপনি সৃষ্টিকর্তাকে বুঝবেন। এর বাইরে, সন্মান বা ক্ষমতা কিংবা অর্থ যদি আপনাকে আপনার প্রভুর থেকে ডিস্টার্ক্ট করে তাহলে বুঝবেন আপনি ট্র্যাকে নেই। মানে আমি এভাবে ভাবি, জীবন সুন্দর হোক; জীবনে বসন্তের বাতাস বয়ে বেড়াক। এক কাপ লাতে, মকা, ক্যাপিচিনো, এক্সপ্রেসো বা এমিরিকানো, প্রতিদিনের সঙ্গী হওক। একটা গাড়ী সাথে বাড়ী, আর সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা। এটা আমার চাওয়া; প্রতিটা সাধারণ মানুষই এভাবে চায় হয়তো। তবে এর জন্য মরিয়া হয়ে অসৎ থেকে ক্ষমতাবান হওয়া, সন্মান পাবার আশায় ভুল কিছু করা বা ভুল কাউকে সমর্থন করা আমার নীতির বিরুদ্ধে যায়। আমি আরও চাই একটা সুন্দর পরিবার, একজন সুন্দর মনের মানুষ। যাকে নিয়ে পাড়ি দিতে পারবো পুরোটা জীবন। যাকে দেখলে মনটা শান্ত হয়ে যাবে। যে আমার অপেক্ষায় ব্যাকুল থাকবে। আমার পরিবার হবে; যেখানে শুধু আমার কথাই চূড়ান্ত হবে না, সবাই ইসলামিক আদর্শে বেড়ে উঠবে। সবার ভিন্ন ভিন্ন মতামত থাকবে, সেই প্রেক্ষিতে সকল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সেই সাথে জীবন মিনিমাল হলে তাঁর সৌন্দর্য যে কতটা, তা অন্তত পরিবারের মানুষকে বুঝাতে পারলেই আমি সাকসেস। আমি আমার নতুন জীবনের জার্ণিতে আমার নিজের বানানো পরিবারের কারও ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাই না। চাই না কারও অধিকার ক্ষুণ্ণ হওক। ছোট জীবনে যাতে কাউকে একটা আঁচড় দেয়া না লাগে। নিজেকে চিনতে আমার বহু সময় অতিবাহিত হয়েছে। আমি প্রচণ্ড র‍্যোড মানুষ ছিলাম। এখন যথেষ্ট নরম সরম মানুষ। আলহামদুলিল্লাহ্‌।

(পরে এখানে আরও কথা সংযোজন হবে)

আহমেদ
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত ১:০৭

আরও লেখা পড়তে ভিজিট করুন আমার ব্লগ সাইটে